Posts

ছোট ছোট বিষয়ে মা বদদোয়া দেন; কী করব?

  ছোট ছোট বিষয়ে মা বদদোয়া দেন; কী করব? জবাব:   وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করা, মায়ের আনুগত্য করা ওয়াজিব। ইসলাম জানিয়েছে, মায়ের পদতলে জান্নাত। মায়ের অবাধ্য হওয়া, মাকে রাগান্বিত করা— হারাম; এমনকি সেটা যদি শুধু উফ্‌ উফ্‌ শব্দ উচ্চারণ করার মাধ্যমে হয় তবুও। কোরআন-হাদিসের অসংখ্য স্থানে এ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহর বাণী: وَقَضَى رَبُّكَ أَلا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلا كَرِيمًا وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا “তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে `উফ্‌’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং  তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বল ।  আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্...

আকিকা দিতে না পারলে নবজাতকের উপর কোনো প্রভাব পড়ে কি?

  আকিকা দিতে না পারলে নবজাতকের উপর কোনো প্রভাব পড়ে কি? জবাব:   وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড ‘আল-লাজনাতুদ্দায়িমাহ লিল-ইফতা’-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ‘আমার কয়েকজন সন্তান আছে। আমি সীমিত আয়ের মানুষ। তাই তাদের পক্ষ থেকে আকিকা করতে পারে নি। এর কারণে আমার কোনো গুনাহ হবে কি?’ ফতোয়া বোর্ড উত্তর দিয়েছিল, إذا كان الواقع كما ذكرت من قلة ضيق اليد؛ فلا حرج عليك في عدم التقرب إلى الله بالعقيقة عن أولادك ؛ لقول الله تعالى:  لا يكلف الله نفساً إلا وسعها     البقرة / 286  ، وقوله:  وما جعل عليكم في الدين من حرج  الحج / 78  ، ولما ثبت عن النَّبيّ  ﷺ  أنه قال : (  إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه  ) ، ومتى أيسرت شرع لك فعلها ‘যদি বাস্তবেই আপনি গরিব হন, তাহলে আপনার জন্য আপনার সন্তানদের পক্ষ থেকে আকিকা না করাতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘তিনি ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর সংকট আরোপ করেন নি।’ ...

রোজা রেখে স্ত্রীকে ধরে বা জড়িয়ে শোয়া যাবে?

  রোজা রেখে স্ত্রীকে ধরে বা জড়িয়ে শোয়া যাবে? জবাব:  যদি উত্তেজনার আশংকা না থাকে তাহলে রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে ধরে বা জড়িয়ে শোয়া যাবে। এতে রোজার কোন ক্ষতি হবেনা। কেননা আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ﻳُﻘَﺒِّﻞُ ﻭَﻳُﺒَﺎﺷِﺮُ ﻭَﻫُﻮَ ﺻَﺎﺋِﻢٌ ﻭَﻟﻜِﻦْ  ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻣْﻠَﻜَﻜُﻢْ ﻟِﺈِﺭْﺑِﻪِ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম অবস্থায় (স্ত্রী) চুম্বন করতেন, শরীরে শরীর স্পর্শ করতেন। কেননা, তিনি তার প্রবৃত্তির (যৌন চাহিদা) উপর তোমাদের চেয়ে অধিক নিয়ন্ত্রক ছিলেন। (বুখারী-১৯২৭) তবে যে সমস্ত যুবক নিজেদেরকে সামলাতে পারবেনা, তাদের জন্য রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

বিয়ের আগে প্রেম করা যায় কিনা?

  বিয়ের আগে প্রেম করা যায় কিনা? জিজ্ঞাসা- ০৪ : ছেলে এবং মেয়ে দু’জনের মধ্য ইসলামিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলা যাবে কি না? অর্থাৎ ভালবাসা।  জবাব:  বর্তমানে আমাদের সমাজে টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, নাটক, সিনেমা ভালোবাসার নামে যা প্রচার করা হয় তার কারণেই হয়ত আপনার মাঝে এজাতীয় প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। মূলতঃ ছেলে এবং মেয়ে দু’জনের মধ্যে ইসলামিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটাই পদ্ধতি-বিয়ে। সুতরাং শরীয়তের বাঁধা না থাকলে এবং বিয়ের জন্য উপযুক্ ত মনে হলে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিবে। প্রস্তাব গৃহীত হলে বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তুলবে। প্রস্তাব গৃহীত না হলে ভুলে যাবে। ভুলে না যাওয়ার মানে হচ্ছে, শয়তানের পক্ষ থেকে বিপথগামী হওয়ার জন্য দরজা খুলে রাখা। বিয়ের পূর্বে প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলা ইসলামি-শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয় এজন্য যে, ইসলামের বিধি-বিধান অনুযায়ী কোন পরনারী কোন পরপুরুষের সান্নিধ্যে আসতে পারেনা। দেখা-সাক্ষাৎ বা ফোন, নেট ইত্যাদির মাধ্যমে প্রেমালাপ করা যায়না। ইসলামি-শরিয়তের দৃষ্টিতে এগুলো একপ্রকার যিনা বা ব্যভিচার। এমনকি মনে মনে কল্পনা করে তৃপ্তি অনূভব করার দ্বা...

কোন কারণবশতঃ নামাজ পড়তে না পারলে কী করণীয়?

  কোন কারণবশতঃ নামাজ পড়তে না পারলে কী করণীয়? জবাব :   কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইমানের পর নামাজের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চাই তা সময়মতো আদায় করা হোক অথবা ওয়াক্তের পর কাযা করা হোক। যদি কোনো কারণে সময়মতো নামাজ পড়তে না পারে তাহলে মুসলিম উম্মাহর সব মুজতাহিদ ইমাম এ ব্যাপারে একমত যে, পরবর্তী সময়ে তা কাযা করা জরুরি।যেমন মালেকি মাজহাবের সুপ্রসিদ্ধ ইমাম ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেন, ‘ফরজ রোজার মতো ফরজ নামাজও সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কাযা করতে হয়। এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমাই যথেষ্ঠ দলিল।’  (আল ইসতিজকার : ১/৩০২) পবিত্র কোরআনের সুরায়ে নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘’নিঃসন্দেহে মুমিনদের প্রতি নামাজ অপরিহার্য রয়েছে, যার সময়সীমা নির্ধারিত।”এ আয়াতে নামাজের সময়সীমা নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টি যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা না হলে পরবর্তী সময়ে ওই নামাজ কাজা করার বিষয়টিও পরোক্ষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এটা আল্লাহ তায়ালার ঋণ, আর ঋণ সময়মতো আদায় না করতে পারলে পরবর্তী সময়ে তা আদায় করা জরুরি। নবীজি (সা.) বলেছেন, ”ঘুম বা বিস্মৃতির কারণে যার নামাজ ছুটে গেল, যখন ...

কোরানের সাধারণ জ্ঞান:::

  কোরানের সাধারণ জ্ঞান:::: প্রশ্ন : কুরআন শব্দের অর্থ কি? উত্তর : পঠিত, জমা করা। প্রশ্ন : আল কুরআনের আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য কি? উত্তর : আলোচ্য বিষয় সরল সঠিক পথ এবং উদ্দেশ্য হেদায়াত। প্রশ্ন : আল কুরআন কোথায় সংরক্ষিত আছে? উত্তর : লৌহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে। প্রশ্ন : সর্ব প্রথম আল কুরআন কোথায় কখন অবতীর্ণ হয়? উত্তর : হেরা গুহায় ৬ আগস্ট ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে। প্রশ্ন : জামিউল কুরআন কাকে বলা হয়? উত্তর : হযরত উসমান গনী রা.কে। প্রশ্ন : সর্ব প্রথম আল কুরআনের পূর্ণাঙ্গ কোন সূরা নাযিল হয়? উত্তর : সূরায়ে ফাতিহা। প্রশ্ন : আল কুরআনের সর্ব প্রথম হাফিজ কে? উত্তর : মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: প্রশ্ন : কুরআন নাযিল হতে কতটুকু সময় লেগেছে? উত্তর : ২২ বছর ৫ মাস ১৪ দিন। প্রশ্ন : আল কুরআনের সর্বমোট আয়াত সংখ্যা কত? উত্তর : ৬ হাজার ৬শত ৬৬ আয়াত। প্রশ্ন : মক্কায় সর্ব প্রথম কোন সূরা নাযিল হয়? উত্তর : সূরায়ে আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত। প্রশ্ন : মক্কায় সর্বশেষ কোন ছূরা নাযিল হয়? উত্তর : সূরায়ে আনকাবুত। প্রশ্ন : মদিনায় সর্ব প্রথম ও সর্বশেষে কোন সূরা নাযিল হয়? উত্তর : সর্ব প্রথম সূরায়ে বাকারা, সর্বশেষ সূরায়ে মায়েদা। প্রশ্ন : আল...

স্ত্রী সহবাসের সময় অন্য নারীর প্রতিচ্ছবি কল্পনা করা

  স্ত্রী সহবাসের সময় অন্য নারীর প্রতিচ্ছবি কল্পনা করা  যাবে কি না ? জবাব:  স্ত্রী সহবাসের সময় অন্য নারীর প্রতিচ্ছবি কল্পনা করা, অনুরূপভাবে নিজ স্বামীর সাথে সহবাসের সময় অন্য পুরুষের কল্পনা করার বিষয়টিকে প্রত্যেক সুস্থ বিবেকমান মুমিনই মন্দ ও নিন্দার চোখেই দেখে থাকে। আর  হাদিসে আছে, ما رأى المسلمونَ حسنًا فهوَ عندَ اللهِ حَسَنٌ وما رَأَوا سيِّئًا فهو عندَ اللهِ سيئٌ মুসলিমরা (ঈমানি বিবেক নিয়ে) যে জিনিস ভালো চোখে দেখে তা আল্লাহর কাছে ভালো। আর মুসলিমরা যে জিনিস মন্দ চোখে দেখে সেটা আল্লাহর কাছে মন্দ। ( মুসনাদে আহমাদ ৫/২১১) অপর হাদিসে এসেছে, عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  ﷺ  إِنَّ الْمَرْأَةَ تُقْبِلُ فِي صُوْرَةِ شَيْطَانٍ وَتُدْبِرُ فِي صُوْرَةِ شَيْطَانٍ إِذَا أَحَدُكُمْ أَعْجَبَتْهُ الْمَرْأَةُ فَوَقَعَتْ فِي قَلْبِهِ فَلْيَعْمِدْ إِلَى إِمْرَأَتِهِ فَلْيُوَاقِعْهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ ماَ فِي نَفْسِهِ. জাবির রাযি. বলেন, রাসূল  ﷺ  বলেছেন, নিশ্চয়ই মহিলারা শয়তানের আকৃতিতে আসে আর শয়তানের আকৃতিতে যায়। যদি কোন নারীকে তোমাদের কাউকে ভাল লাগে এ...